দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই প্রেস ব্রিফিং করে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ এমন বক্তব্য দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিষয়টি নিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রিট দায়েরের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
একই সঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য বা প্রেস ব্রিফিং থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিরত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে। রিটটি বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য রয়েছে।
রিটে দুদকের গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অনুসন্ধান বা বিচারাধীন কোনো বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা এবং এরই মধ্যে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির এক কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। আসিফ মাহমুদের দাবি, অনুসন্ধান শুরুর আগেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার দুদকের নেই।
রিটে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে দুদকের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি। এ বক্তব্যের কারণে তার সম্মানহানি হয়েছে বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়, এ বিষয়ে ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করা হয়। ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক পদায়ন, ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ও বিদেশে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়।
আসিফ মাহমুদ রিটে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন। তার দাবি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মন্ত্রণালয়ের আদেশের মাধ্যমে হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর, ১১ মে ২০২৬ কার্যকর হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে আরও দাবি করা হয়েছে, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার উদ্দেশ্যে এসব প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে।
এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থি বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে। হাইকোর্টের কাছে দুদকের ওই দুই প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি অনুসন্ধানাধীন বিষয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য প্রচার থেকে কমিশনকে বিরত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
এমএম/